৬ বছরের প্রেম মিথ্যা হয়ে গেল

মজার মজার এবং নতুন নতুন গল্প পেতে আমাদের আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন

প্রায় ছয়টি বছর পর, আমার দোস্তর সাথে আজ আমার প্রথম দেখা হবে।বন্ধুরা, বুঝতে পারলে না তো? খুলে বলছি…. একটি রং নাম্বারে তার সাথে আমার পরিচয়।মেয়েটির নাম মিথিলা।যশোর জেলার কোনো এক গ্রামের সহজ,সরল একটি মেয়ে।রং নাম্বারে কথা বলতে বলতে তার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়।মাথিলা আমাকে দোস্ত বলে ডাকে আমিও তাকে দোস্ত বলে ডাকি। বন্ধুত্ব এক সময় প্রেমের রুপ নেয়।দুজন দুজনাকে না দেখেয় অনেক ভালোবেসে ফেলি।মিথিলা আমাকে দেখার জন্য প্রচুর কান্না কাটি করতো।আমি দেখা করতে চাইতাম না।কারন আমি দেখতে তেমন ভালো না।আমার তুলোনায় মিথিলার চেহারা অনেক ভালো ছিলো।সালটি ছিলো ২০১৩,একদিন সকালে সে বায়না ধরে বসলো,তার সাথে আমার দেখা করতে হবে।সারাটা দিন একটায় কথা দেখা করতে হবে।আমি রাজি হয়নি, কারন ও যদি আমাকে দেখে পছন্দ না করে।তহলে তো ও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।সে ব্যাথা আমি কি করে সহ্য করবো?সন্ধ্যায় যখন জানতে পারলাম যে আমার জন্য নিজের হাত কেটে অঙ্গান হয়ে গেছে,তখন নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না।মিথিলাকে কথা দিলাম তোমার সাথে আমি ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে দেখা করবো।অর্থাত আজ থেকে ৩৬৫ দিন পর তোমার সাথে আমি দেখা করবো।তুমি কি রাজি? অনেক কষ্টের পর মিথিলা রাজি হলো।এক বছর সময় কেনো নিয়েছিলাম কেনো জানো বন্ধুরা? কারন আমি যেনো তার জন্য কিছু গিফট নিয়ে যেতে পারি।আমি অনেক গরিব ঘরের একটি ছেলে।

পরের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করি,নিজে টিউসুনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাই। ইচ্ছা ছিলো মিথিলার মাথার চুল থাকে পায়ের নখ পর্যন্ত যা, যা লাগে সব কিছু কিনে নিয়ে যাবো। কিন্তু এতো টাকা আমি কোথায় পাবো?টিউসুনি করে যা পায় তা দিয়ে তো নিজেয় ঠিক মতো চলতে পারি না।একটা একটা করে দিন কমতে থাকলো…আমার টাকাতো মেনেজ হলো না। খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম।রাত শুয়ে শুয়ে একটা বুদ্ধি এলো।মানুষের জায়গায় কাজ করবো।কিন্তু কে নিবে আমাকে কাজে,অনেক কষ্টে একজন কে রাজি করালাম।মাঠে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে হবে।সারা দিন কাজ করলাম।দিন শেষে টাকা পেলাম মাত্র ৬০ টাকা।নতুন কাজের লোক বলে আমাকে ঠকালো।যায়হোক কিছু টাকা তো পেলাম,এমন কিছু কিছু টাকা জমিয়ে জমিয়ে আমার স্বপ্ন পুরোন করবো।সেদিন রাতে আমার আর ঘুম এলো না,সমস্ত শরীর আমার ব্যাথা,হাতে ঠোলা পড়ে গেছে,গায়ে জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।মিথিলা কষ্ট পাবে বলে,তাকে আমি কিছুই জানাইনি। পরের দিন সকালে আমি আবার কাজে যায়।এভাবে চলতে থাকে অনেক দিন। আমার চেহারা আর আগের মতো নাই।রোদে পুড়ে কালো হয়ে গেছে।হাতে ঠোলার জন্য ভাত গুলো অনেক দিন ভালো করে মাখিয়ে খেতে পারি না। আজ আমার মনে অনেক আনন্দ,আমার জমানো টাকা দিয়ে মিথিলার জন্য কেনাকাটা করবো।মার্কেটে যেয়ে একটা মেয়ের চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত যা,যা লাগে সব কিনলাম,বেশ কিছু টাকা খরচ করে সুন্দর ডিজাইন দেখে মিথিলার জন্য পায়ের নূপুর বানাতে দিলাম।আমার অনেক দিনের স্বপ্ন আমার হাটুর উপরে দোস্তর পা রেখে নিজের হাতে নূপুর পরিয়ে দিবো।আজ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ।আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।আজ আমার স্বপ্ন পুরোনোর দিন।

৬ বছর পরে আজ প্রথম আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা হবে।আনন্দে চোখে পানি এসে যাচ্ছে।আমার ভালো জামা কাপড় ছিলো না। অনেক সকালে আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে জামা প্যান্ট নিয়ে সে গুলো পরে দোস্তর সাথে দেখা করতে যশোর পৌর পার্কে চলে গেলাম।নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছিনা।আমার অনেক দিনের সাধনা আজ পুরোন হতে চলেছে।হাতে একটি লাল গোলাপ নিয়ে দাড়িয়ে আছি পৌর পার্কের পুকুরের কাছে।হটাৎ করে মিথিলার ফোন,আমি দোস্তকে পুকুরের কাছে আসতে বললাম এবং আমাকে যাতে চিনতে পারে এ জন্য আমি যা যা পরে এসেছি সব বললাম। আমি দূর থেকে দেখছি, আমার স্বপ্নের রাজকন্যা আমার দিকে এগিয়ে আসছে।আমার বুকের ভিতর ডিব,ডিব করে কাপছে।আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না,আমার দোস্ত আমার থেকে আর এক হাত দূরে দাড়িয়ে আছে…. আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কি সুন্দর আমার জানের চেহারা,লম্বা চুল,হরিনীর মতো চোখ পটল চেরা ঠোট, দুধে আলতা গায়ের রং ঈশ্বর এতো সুন্দর করে ওকে তৈরি করেছে,ভাবতে অবাক লাগছে। মিথিলার চোখে জল, আমার চোখেও জল। দুজনের মাঝে দুরত্ব মাত্র এক হাত।এখনো কেউ কারোর সাথে কথা বলি নাই।দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে শুধু কাদছি।হটাৎ করে মিথিলা আমাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। জিবনের এই প্রথম আমাকে কোনো মেয়ে জড়িয়ে ধরলো।

আহ’ ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরতে কি শান্তি…. মিথিলা তার দু হাত দিয়ে আমার চোয়ালটা ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো, দোস্ত, তুমি এতো নিষ্টুর কেনো?আমার সাথে এর আগে কেনো দেখা করোনি? আমি বললাম আমি দেখতে খারাপ,দেখা করলে আমাকে যদি তোমার পছন্দ না হয়? মিথিলা বললো,তোমাকে আমি ভালোবাসি দোস্ত,তোমার চেহারা, টাকা পয়সা কে আমি ভালোবাসি নাই।আমাদের দুজনের কান্না দেখে আসে পাশের লোকজন ছুটে এলো।সবাই বলছে কি সমস্যা ভাই কেনো কাদছেন?আমি বললাম ৬ বছর পর আজ প্রথম আমাদের দেখা হলো তাই আনন্দে কাঁদছি। অনেকে আমাদের দুজনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালো।সেখান থেকে আমরা দুজন চলে গেলাম যশোর বোর্ড কিলাবে। অনেক দিনের জমানো কথা গুলো তাকে জানালাম।অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে কেনা গিফট গুলো তার হাতে তুলে দিলাম।আমার হাটুর উপরে তার পা রেখে,তার পায়ে নূপুর পরিয়ে দিলাম।অনেক খুশি হলো দোস্ত। দোস্ত আমাকে বললো তুমিতো চাকরি কিম্বা কোনো কাজ করো না,এতো টাকা কোথায় পেলে?বলো?অনেক বলার পরে আমার ঠোলা উঠা দু হাত তাকে দেখালাম।হাত দেখে সে চমকে উঠলো।দু চোখ বয়ে পানি বেয়ে পড়লো।আমার দু হাতে চুমু খেয়ে বললো, আমাকে খুসি করতে এতো কষ্ট কেনো করলে দোস্ত?তোমার প্রতিটা গিফট আমি আমার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত যন্ত করে রাখবো।আমি তোমাকে কোনো দিন ছেড়ে যাবো না।এই বলে আমাকে দোস্ত জড়িয়ে ধরলো।দেখতে, দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো।অনেক কষ্টে দোস্তকে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরলাম।কিছুদিন পর একটা চাকরির জন্য আমি ঢাকায় চলে এলাম। ফোনে নিয়োমিতো দোস্তর সাথে কথা হয় আমার। আজ আমি ঢাকায় এসেছি চার মাস।আমার দোস্ত আজ আমাকে বলছে, দোস্ত তুমি নিজের প্রতি খেয়াল রেখো, কিছু হলে ডাক্তার দেখিও,নিয়োমিত খাওয়া দাওয়া করো।আজ দোস্তর এতো পরিবর্তন কেনো?মনটা কেনো জেনো কেদে উঠলো।অনেক বলার পরে দোস্ত আমাকে জানালো,এক মাস আগে তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।

…… শোনার পরে আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মিথিলার দেওয়া ম্যানিব্যাগ আমি হারিয়ে ফেলে খুব কাঁদছিলাম এই মিথিলায় তখন আমাকে বলেছিলো, কাঁদছো কেনো দোস্ত? ম্যানি ব্যাগ হারিয়েছে তো কি হয়েছে আমি তো হারায় নি।আমি আবার তোমাকে ম্যানিব্যাগ কিনে দিবানে। আজ তুমি হারিয়ে গেলে দোস্ত,কেনো সেদিন মিথ্যা বলেছিলে? আমি একদিন মিথিলাকে বলছিলাম,আমি গরিব বলে আমাকে কোনোদিন ছেড়ে যাবে না তো?সেদিন আমাকে বলেছিলো,দরকার হলে দুজনে লবন আর সাদা ভাত একথালায় মেখে খাবো তবুও তোমাকে ছেড়ে যাবোনা দােস্ত।সেদিন কেনো মিথ্যা বলেছিলে দোস্ত বলো?চিৎকার করে অনেক কাদলাম।এই কান্না কে দেখবে আমার। আমার ৬ বছরের প্রেম শেষ।যে মানুষটার জন্য এতো কষ্ট করলাম তার প্রতিদান কি এইটা??? এ কেমন ভালোবাসা? আমি এখন কাকে দোস্ত বলে ডাকবো???? এটায়কি প্রেম?? আমি ঘৃনা করি এমন প্রেম কে। আজ প্রায় ৪টা বছর হয়ে গেলো,নিজেকে অনেক পাল্টে ফেলেছি,এখন আর আমার পরের জামা পরে থাকতে হয় না।প্রতি মাসে নতুন নতুন জামা কাপড় কিনি,কিন্তু আমার কি দূরভাগ্য তোমাকে দেখাতে পারছি না।বিস্বাস করো দোস্ত,এখনো প্রতিদিন তোমার কথা মনে করে চোখের কোনে পানি চলে

আমাদের গল্প আপনাদের কেমন লাগছে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন

ভালো লাগলে লাইক শেয়ার করবেন

আপনাদের একটা লাইক আমাদের কাজ করার উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেবে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*