ঝগড়াটে ভালোবাসা || মিতু ইসলাম

অবনী:-এই উঠ কইতাছি তোরে।
মেহেরাজ তুই এখনও ঘুমাছ আজ কলেজে পরীক্ষা আছে আর তুই কি না তাড়াতাড়ি না করে পরে পরে ঘুমাছ।
উঠ কইতাছি তাড়াতাড়ি।
এই মেহেরাজ উঠ না ঘুম থেকে।

মেহেরাজ:-……….(ঘুম)

অবনী:-(গায়ে ধাক্কা দিয়ে) এই মেহেরাজ উঠ কইতাছি তোরে।
আজ দেরি করে উঠলে আজ আর পরীক্ষা দেয়া হবে না।
পরে এই বছর আর সেকেন্ড ইয়ারে উঠা হবে না আমাদের।
উঠ না অনেক তো ঘুমালি তুই এবার তো উঠ ঘুম থেকে।

মেহেরাজ:-দেখ অবনী একদম ঘুমের ডিস্টার্ব করবি না তুই বলে দিলাম।
ঘুম আমার জান আর তুই প্রতিদিন আমাকে ঘুম থেকে তুলে দেছ।
তুই যা গিয়ে পরীক্ষা দে আমার দিতে হবে না।
তুই পরীক্ষা দিয়ে সেকেন্ড ইয়ার উঠে যা।
এবার তুই আমাকে ঘুমাইতে দে।

অবনী:-তার মানে তুই ঘুম থেকে উঠবি না তাই তো???

মেহেরাজ:-………..(ঘুম)

অবনী:- আচ্ছা ঠিক আছে তবে তুই ঘুমা আমি বরং গিয়ে আন্টিকে ডেকে আনছি আর তুই আমাকে বকা দিছচ।
আর এখানে আসতে বারন করছচ।(এ কথা বলে চলে আসতে নিলাম)

মেহেরাজ:-আল্লাহ গো কি কয় এই মেয়ে!!!
এই মেয়ে গিয়ে আম্মুকে উল্টো পাল্টা কথা বলবে আর আম্মু ও এই মেয়ের সব কথা বিশ্বাস করবে।
আর তখন তো আমার কপালে দুঃখ আছে।
না আর ঘুমালে হবে না এবার আমার সাদের ঘুম থেকে উটতেই হবে।
আল্লাহ গো এই মেয়ে তো দেখি সত্যি চলে গেছে।
তাড়াতাড়ি এই মেয়েকে আটকাতে হবে।
দৌড়ে গিয়ে অবনীর হাতটা ধরলাম।
আরে অবু বাবুই আমার কই যাও তুমি এই দেখো আমি তো কখনই ঘুম থেকে উঠে গেছি।
আমি তো এতোক্ষণ তোমার সাথে মজা করতেছিলাম।
আমি তোমার আর কষ্ট করে আম্মু কে ডাকতে হবে না।

অবনী:ওরে বাবা এতো প্রেম দেখি এখন বাইয়া পরে তোর।
বাবু তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো আমি আন্টির কাছে যাই।
তোমার কষ্ট করতে হবে না।

মেহেরাজ:- না না আমি তো আর ঘুমাবো না তুমি যাও আম্মু সাথে গল্প করো আর আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি।

অবনী:-না না তোর আসতে হবে না তুই গিয়ে আবার ঘুমা আমি আন্টির কাছে যাই।

মেহেরাজ:- আরে না তুই কোথাও যাইছ না তুই এখানে থাক তুই শুধু একটু অপেক্ষা কর আমি আসছি।

অবনী:- এবারের মতো তোকে ছেড়ে দিলাম।তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নে তারপর নিচে আয়।
আমি অপেক্ষা করছি নিচে।

মেহেরাজ:-হুম,আচ্ছা যা তুই।

ওহ্!হায় বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা ভুলেই গিয়েছিলাম আপনাদের কথা।
কি করবো বলেন এমন এক ডাইনি আমার সামনে ছিলো তার কাছ থেকে বাঁচতে গিয়ে আপনাদের কথা মনে ছিলো না।
আর ওকে যে ডাইনি বলছি তা কিন্তু আবার বলবেন না হয় আমার আর রক্ষা নাই।
আমার মাথার সব চুল ওর হাতে চলে যাবে।
আর আমার না তো জানেনই।

আমি মেহেরাজ হোসাইন।
বাবা মোঃমাহাবুব হোসাইন।
আর মা মারিয়া হোসাইন।
বাবা একজন বড় বিজনেসম্যান।
আর মা একজোড়া গৃহিণী।
আর আমি তাদের একমাত্র ছেলে।

আর এতোক্ষণ যে ডাইনির সাথে কথা বলছি সে হচ্ছে আমার বাবাওমায়ের বন্ধুর মেয়ে।
ওর বাবা আর আমার বাবা এবং ওর মা আর আমার মা একে অপরের বন্ধু তাদের অনুযায়ী আমরাও ভালো বন্ধু।
আর বাকি কথা সাথে থাকুন আপনারাও যেনে যাবেন পরে।
এখন দেরি হয়ে গেছে যাই রেডি হয়ে নেই।

অবনী:-আন্টি কেমন আছো তুমি??(জরিয়ে ধরে)

মেহেরাজ আম্মু: আমার মেয়েটা কাছে থাকতে কি আমি খারাপ তাকতে পারি নাকি।
আমার মেয়ের মিষ্টি মুখটা দেখলেই তো আমি ভালো থাকি।

মেহেরাজ:- আম্মু কি যে বলো না তুমি ওর চেহারা নাকি মিষ্টি তবেই হইছে।
পেত্নী কি করে মিষ্টি দেখতে হয়।

অবনী:-আন্টি দেখো তোমার ছেলে আমাকে পেত্নী বলে।(কান্নার ভান করে)

মেহেরাজ আম্মু :-মেহেরাজ একদম বাজে কথ বলবি না তুই।
কতো সুন্দর দেখতে আমার মেয়েটা আর তুই কি না তাকে পেত্নী বলছ।
আর যদি কখনো বলছ তোর কান আমি ছিড়ে নিবো বলে দিলাম।

মেহেরাজ:-আচ্ছা আম্মু আর কান ছিড়তে হবে না তুমি তাড়াতাড়ি নাস্তা দেও খেয়ে যেতে হবে।

মেহেরাজ আম্মু:-অবনী নাস্তা করেছিস তুই??

অবনী:- না আন্টি।

মেহেরাজ : আম্মু তুমি ও না কি প্রশ্ন করো পেত্নীটা তো জন্মের পর থেকে সকালের নাস্তা তোমার হাতে খায় তার জন্যে না খেয়ে চলে আসে আর তুমি কি না বলো নাস্তা করেছে কি না।

অবনী:-একদম বেশ করেছি।
তুই যেমন জন্মের পর থেকে দুপুরে আমার আম্মুর হাতে ছাড়া খাচ না তার জন্যে আম্মুর কাছে চলে যাছ।

মেহেরাজ আম্মু :-আচ্ছা এবার থাম তোরা।
তাড়াতাড়ি নাস্তা কর।
আর মেহেরাজ তুই কেনো শুধু শুধু মেয়েটার পিছনে লেগে থাকছ।

মেহেরাজ:-আম্মু তুমি যেই পরিমাণ খাবার খাওয়াও ওকে আমার বাপের সব টাকা ওর পেটে চলে যাবে কম করে খাওয়াও।

অবনী:-আন্টি দেখো তুমি তোমার ছেলে আমাকে কি বলছে।

মেহেরাজ আম্মু:-মেহেরাজ আর একটা কথাও যেনো না শুনি তাড়াতাড়ি করে চুপচাপ খেয়ে যা।

আপনাদের তো বলাই হয় নি ছোট থেকে অবনী আমার আম্মুর হাতে সকালে নাস্তা করে আর আমি দুপুরে অবনীর আম্মুর হাতে খাবার খাই না হয় আমাদের খাবার হজম হয় না।
আচ্ছা পরে কথা বলি এখন আগে কলেজে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*