বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি খালেদা জিয়ার আহ্বান

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজার বাইরে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রধানের এই বার্তার কথা জানান।

গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজায়’ রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এই সাক্ষাৎ হয়।
গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের সাজা স্থগিত করে মুক্ত হওয়ার পর প্রথম গত ২৫ মে ঈদুল ফিতরের দিন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ হয়েছিল।
এর আগে শনিবার ঈদুল আজহার নামাজের পরে সকাল ১১টার দিকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।

ফিরোজার নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকালে ঈদের নামাজের পর বোন সেলিমা ইসলাম ও ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দর ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসায় আসেন। দুপুরের খাবার বোনকে নিয়ে খালেদা জিয়া খেয়েছেন।
খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে ফিরোজায় আসার পর থেকে তার কয়েকজন স্বজন ছাড়া সেখানে প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে কঠোর কড়াকড়ি রয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে রাতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কোভিডে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, বন্যা পরবর্তিতে যে সমস্যা দাঁড়াবে তার জন্য তাদের ত্রাণ ও পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব কর্মীদেরকে-নেতাদেরকে দূর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন ম্যাডাম।’

বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম এতোই অসুস্থ নিজে বাসার নিচে নামতে পারেন না, হাঁটতেও পারেন না। তার এখনো খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা, খেতেও সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন রকমভাবে। আসলে ম্যাডামের উন্নত চিকিৎসা যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে না। হাসপাতালেও যাওয়া যাচ্ছে না এখানে যে পরিস্থিতি চলছে। সব মিলিয়ে তার শারীরিক অবস্থাটা ভালো না।’

সাক্ষাতে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে, অনেকে চলে গেছেন। সব কিছু মিলিয়ে বলা যেতে পারে সুখ-দুঃখের আলাপ হয়েছে।’

সাক্ষাতের বরাত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোভিড সংক্রমণের যে বর্তমান অবস্থা, বন্যার যে বর্তমান অবস্থা, দেশের অর্থনীতির যে পরিণতি হতে যাচ্ছে- সে সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষেরা তাদের যে নিদারুণ কষ্ট আর কিছুদিন পরে কী অবস্থা দাঁড়াবে সে নিয়ে কথা হয়েছে। আলোচনার বেশিরভাগ সময় ছিল কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি অবস্থা ও বন্যা পরবর্তি অবস্থা কী হবে, যেহেতু শোনা যাচ্ছে এবারকার বন্যা লংটার্ম বন্যা থাকবে। তাহলে দেশের বন্যা কবলিত মানুষের কিভাবে পূর্ণবাসিত হবে, কৃষকেরা কিভাবে থাকে সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

শনিবার রাতের এই সাক্ষাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*