তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কে এই অপু ভাই ও প্রিন্স মামুন?

আমরা তাদের চিনি না। কিন্তু তারা জনপ্রিয়। আমরা তাদের পাত্তা দেই না, বা কখনো আমাদের সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে এদের ছবি বা ভিডিও এলে আমরা হেসে ছড়িয়ে দেই। অথচ আমাদের দেশীয় শোবিজের অনেক তারকাও এদের জনপ্রিয়তার কাছে হার মানবে। এমনই একজন তরুণ প্রিন্স মামুন। প্রিন্স মামুন টিকটক ও লাইকিতে ভিডিও পোস্ট করেন।

সেসব ভিডিও মানুষজন দেখেন। সেই দেখার হার হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ বা কোটির ঘরে। মামুনকে লাইকিতে অনুসরণ করে ১১ লাখের মতো মানুষ। এদের অধিকাংশই তরুণ-কিশোর। এই মামুনের নামে ফেসবুকে অসংখ্য ফ্যান ক্লাব গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন জেলা উপজেলায় তরুণ-কিশোররা সংঘবদ্ধভাবে প্রিন্স মামুনের ভক্ত হয়ে ফ্যান ক্লাব খোলে। মামুন ঢাকাতেই থাকেন।

একইভাবে জনপ্রিয় অপু ভাই নামের আরেক তরুণ। তথ্য পাওয়া গেছে অপুর বাড়ি বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। অপু ভাই সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন অপু নজরুল নামের একজন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নোয়াখালীর বার্বার শপে কাজ করা অপু ‘অফু বাই’ নামে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লাইকি ও টিকটকে। অফুর উইয়ার্ড হাসি, ক্রিপি হেয়ারস্টাইল ও অদ্ভুত সব ডায়ালগের জন্য এই তরুণকে মূলত রোস্ট করতে করতে বিখ্যাত বানিয়েছে ইউটিউবাররা। সেকারণেই সে অল্প সময়ের মধ্যেও রিচের দিক দিয়ে মামুনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখন সে ঢাকা এসে তার ফ্যানক্লাবের ফ্যানদের সাথে মিটআপ ও নতুন বান্ধবীদের সাথে ডেট করে বেড়াচ্ছে। তবে এই জগতেও আছে বিরোধ। তারই জের ধরে অফুর ফ্যানদের প্রিন্স মামুনের ফ্যানরা কদিন আগে মারধোর করেছে। এত কিছুর পরেও অফু বাই এর রিচ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।’

মামুন সম্পর্কেও অপু নজরুল এভাবেই লিখছেন, ‘পাবলিক ন্যুনসেন্স তৈরি ও ইভটিজিং এর দায়ে গত সপ্তায় মামুনকে দিয়াবাড়িতে স্থানীয় ছেলেরা মারধোরও করেছে। তারপরেও শ্রমজীবি ও কালচারালি ডিপ্রাইভড ইয়ংস্টারদের মধ্যে মামুনের জনপ্রিয়তা কমে নাই। বরং তার নামে এলাকায় এলাকায় ফ্যান ক্লাবের মিট আপ চলছে। ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে মামুনও তার হলুদ R15 বাইক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সেখানে৷ হবেন না কেন? বহু স্কুল ও গার্মেন্টসগামী কিশোর কিশোরীর স্বপ্নের নায়ক যে এখন টেন মিলিয়ন সেলিব্রেটি প্রিন্স মামুন!

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলছেন, ‘প্যারালাল ইউনিভার্স। সেখানে ১ মিলিয়ন ফলোয়ারের সেলিব্রেটি আছে, ট্রল করা ছাড়া যাকে আমরা চেনার কোনো কারণ নেই। অথচ তারা আছেন। তাদের নামে ফ্যান ক্লাব আছে, ফ্যান ভক্তরা তাদেরকে দেখতে ভিড় জমিয়ে ফেলে-এগুলো সবই কিন্তু বাস্তবতা। এদেরকে আমাদের ছাঁচে ফেলার দরকার নেই। যতক্ষন শুধু আনন্দের মাঝে আছে, চলুক। আমি হিরো আলমকে কখনোই সিরিয়াসলি নেই নি, কিন্তু তাকে আমি ভালা পাই। এনথ্রোপলজির ছাত্ররা একই সমাজে প্যারালাল ইউনিভার্সের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করে আমাদেরকে ব্যাখ্যা হাজির করবেন একদিন। আমি শুধু সবাইকে ভালোবাসা জানিয়ে যাই।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*